ভিক্ষুক মনোবৃত্তি কক্ষনোই সাফল্য অর্জন করতে পারেনা।

— সাঈদা রিদওয়ানা।

কারাতে ও রিলাক্সেশন প্রশিক্ষক এবং সাইকিয়াট্রিক সোসাল ওয়ার্কার, মন ঘর।

চলার পথে কেউ যখন হাত বাড়িয়ে সাহায্য চায়, আমি প্রথমেই তার কর্ম ক্ষমতা কতটুকু অবশিষ্ট আছে তা ভালো করে লক্ষ্য করি। শক্ত সমর্থ পঙ্গু ব্যক্তি দেখলেও “কাজ করে খান” বলে আমি মাথা ঘুরিয়ে নেই।

বেলী ফুলের মালা নিয়ে সন্ধ্যায় ফুল বিক্রেতাদের ছুটোছুটি দেখতে খুব ভালো লাগে। কখনো কখনো অপ্রয়োজনে দুটো মালা কিনে নেই, কিংবা বাচ্চাদের ফুল ফলের বই থাকার পরও কিছু একটা কিনে নেই, একটা টাওয়েলের রুমাল, কিংবা বেলুন। ভালো লাগে তাদের পরিশ্রমের খুব নগণ্য একটি অংশ হতে পেরে।

হাত বাড়িয়ে সাহায্য চাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্ধ এবং অতিশয় বৃদ্ধ/বৃদ্ধা দেখলে খুব কষ্ট হয়। তাদের পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখবো, সে সামর্থ আমার নেই। তাই যৎসামান্য সাহায্যের চেষ্টা করি। আরেকজন মানুষকে আমি বিনা বিচারে সাহায্যের চেষ্টা করি, তিনি হচ্ছেন কন্যা দায়গ্রস্থ পিতা। কেউ যখন বলেন মেয়ের বিয়ে কিন্তু টাকা যোগাড় হয়নি বা যৌতুকের জন্য শ্বশুরবাড়িতে মেয়ে নির্যাতিত হচ্ছে, তখন সাধারণত বাছবিচার না করে সাহায্যের চেষ্টা করি।
গতকাল বাচ্চাকে নিয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে এক রিক্সাচালক সামনে দাঁড়ালেন। চেহারা পরিচিত মনে হল (আমি মানুষের চেহারা খুব সহজে মনে রাখতে পারি না)। বাসা অল্প দূরত্বে বিধায় লাগবেনা বলে হাঁটা ধরলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর পিছন থেকে ডাক শুনলাম, “আম্মা একটা কথা বলতাম।” ফিরে তাকাতেই, “মেয়ের বিয়ে দিব, একটু সাহায্য করেন।” এবার চেহারাটা আরও পরিচিত মনে হল…. আন্দাজের উপর বললাম, কিছুদিন আগে না আপনি মেয়ের বিয়ের কথা বলে সাহায্যে নিলেন? এখনও মেয়ের বিয়ে দেননি?(ঘটনা মিনিমাম একমাস আগের) দ্রুত দৃষ্টি পাল্টে গেল, করুন আর্তি থেকে ধূর্ত সংশয় পূর্ণ দৃষ্টি। “ও দিসিলেন! না…, যোগাড় করতেসি। বিশ হাজার যোগাড় করসি, আরও যোগাড় করতেসি, এ..ই.. বিয়া দিয়া দিব।” বলতে বলতেই রিক্সা দ্রুত ঘুড়িয়ে নিলেন। তার দৃষ্টি বলে দিল সে প্রতারণা করছে।

মানুষের ইমোশন নিয়ে “ফায়দা লুটা” আমার প্রচন্ড অপছন্দের একটি কাজ। শব্দটি বিশ্রী শুনালেও এর থেকে appropriate শব্দ আর পাচ্ছিলাম না। আশ্চর্য, এরা জানে; কাকে, কি দিয়ে কাবু করা যাবে!
হতদরিদ্র থেকে ধনী, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, প্রত্যেকটি শ্রেণীর শঠ ব্যক্তিরা নিজ স্বার্থে সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য; ভেজাল কে খাঁটি, খাঁটি কে ভেজাল; উঁচু কে নিচু, নিচু কে উঁচু বানিয়ে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিথ্যা আর শঠতা দিয়ে পূর্ণ করে রেখেছে। এই ব্যাক্তিদের যতই সহযোগিতা করা হোক এদের কখনই তৃপ্ত করা যায়না।

মহান আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে তৈরি করার পরও আমরা জীবিকা নির্বাহের জন্য সবচেয়ে সহজ একটি ঘৃন্য পথ অবলম্বন করি। ভিক্ষাবৃত্তি একজন মানুষকে ক্ষণিকের সচ্ছলতা এনে দিতে পারলেও কক্ষনোনোই সার্বজনীন সাফল্য এনে দিতে পারে না, বরং ক্রমান্বয়ে এ শ্রেণীর মানুষগুলো অন্যের করুণার ওপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল হয়ে নিজেদের কর্মক্ষমতাকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনে, সুস্থ সবল নীরোগ হওয়া সত্ত্বেও চিরস্থায়ী ভিক্ষাবৃত্তির এই মনোভাবকে অনেক মনোবিদ dependent Personally Disorder এর একটি Modified version মনে করেন, আমাদের ধর্মেও ভিক্ষাবৃত্তিকে বৈধ কিন্তু আল্লাহর নিকট অপছন্দনীয় কর্ম বলে গণ্য করা হয়েছে, আমরা আমাদের সমাজ থেকে এরুপ অলস, পরমুখাপেক্ষী ধূর্ত মানুষ গুলোর পরিমার্জন চাই।

        

Leave a Comment